Ad Code

নতুন অধ্যায়: অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) - আপনার গবেষণার দারুণ এক ঝলক!

নতুন অধ্যায়: অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) - আপনার গবেষণার দারুণ এক ঝলক!

আমি প্রতিনিয়ত গবেষণা শিখি এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করে থাকি। আজকে নতুন একটা টপিক নিয়ে কথা বলব সেটি হল Abstract।

গবেষণাপত্রের একদম শুরুতেই থাকে Abstract যেটা দেখেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় আপনার কাজটা পড়বে কিনা। অনেকটা একটা  বইয়ের পেছনের মোড়কের সারাংশের মতো—এটাই হলো অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract)।

অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) টা আসলে কী? (আপনার গবেষণার সিনেমা ট্রেলার!)
সহজ কথায়, অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) হলো আপনার পুরো গবেষণাপত্রের একটা ছোট্ট কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ সারাংশ (Summary)। ভাবুন তো, আপনি একটা সিনেমা দেখতে যাবেন, তার আগে কী দেখেন? ট্রেলার, তাই না? ট্রেলারে কী থাকে? সিনেমার মূল গল্পটা সংক্ষেপে, কিছু মজার দৃশ্য, আর শেষটা না দেখিয়ে একটা কৌতূহল তৈরি করা। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) ঠিক সে রকমই!

এটা সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দের মতো ছোট একটা লেখা হয় (তবে একেক জার্নাল (Journal) বা প্রকাশনা সংস্থায় এটা একটু কমবেশি হতে পারে)। এই ছোট জায়গার মধ্যেই আপনাকে আপনার পুরো গবেষণার মূল কথাগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। কী নিয়ে কাজ করেছেন, কীভাবে করেছেন, কী ফলাফল (Result) পেয়েছেন আর এর মানে কী—সবকিছুই সংক্ষেপে এখানে বলে দিতে হবে। যারা আপনার পুরো গবেষণা পড়ার সময় পাবে না, তারা এই অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) পড়েই আপনার কাজ সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবে।

কেন অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) লেখা এত জরুরি? (প্রথম দেখাতেই বাজিমাত!) আচ্ছা, আপনি যখন অনলাইন শপিং করেন, তখন যেকোনো জিনিস কেনার আগে কী দেখেন? সেটার ছোট একটা বর্ণনা বা হাইলাইটস (Highlights), তাই না? অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) টাও ঠিক তাই! কেন এটা এত দরকারি, চলুন দেখি:

প্রথম দেখাতেই মন জয়: আপনার গবেষণার সঙ্গে যাদের কোনো পরিচয় নেই, তারা প্রথমেই অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) টা পড়ে। যদি এটা আকর্ষণীয় হয়, তবেই তারা পুরো গবেষণাপত্রটা পড়ার জন্য আগ্রহী হবে। অনেকটা ফেসবুকের  প্রোফাইল পিকচারের (Profile Picture) মতো! আপনার প্রোফাইলটা আকর্ষণীয় হলে তবেই না মানুষ আপনার সঙ্গে পরিচিত হতে চাইবে!

সময় বাঁচানো: ধরুন, একজন গবেষক তার নিজের বিষয়ের ওপর নতুন কোনো কাজ খুঁজছেন। তিনি তো আর হাজার হাজার গবেষণাপত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার সময় পাবেন না, তাই না? অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) পড়েই তিনি বুঝে যাবেন, আপনার কাজটা তার জন্য দরকারি কিনা। এতে তার মূল্যবান সময় বাঁচে। ব্যাপারটা অনেকটা বইয়ের দোকানে বই কেনার আগে ফ্ল্যাপের লেখাটা পড়ার মতো।

সহজে খুঁজে পাওয়া: এখন তো সব গবেষণাপত্র অনলাইন ডেটাবেস (Online Database) এ থাকে। এই ডেটাবেসগুলো অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) এর কিছু শব্দ বা বাক্য দিয়ে আপনার গবেষণাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। যদি আপনার অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) টা ভালো করে লেখা থাকে, তাহলে আপনার কাজটা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। অনেকটা গুগল সার্চে (Google Search) সঠিক কি-ওয়ার্ড (Keyword) দিলে যেমন ঠিক জিনিসটা খুঁজে পান, সে রকম।

নিজের কাজকে ছোট করে চেনা: আপনি যখন আপনার পুরো কাজটাকে এই ছোট্ট পরিসরে আনতে যাবেন, তখন আপনার নিজের কাছেই আপনার গবেষণার মূল বিষয়বস্তুটা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। ভাবুন, একটা বড়সড় বাড়ির নকশা আপনি একটা ছোট্ট ডায়াগ্রামে (Diagram) আঁকছেন – এতে বাড়ির মূল কাঠামোটা আপনার কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) এর ভেতরে কী কী থাকে? (ছোট গল্পের বড় উপাদান!)
একটা ভালো অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) এর কয়েকটা নির্দিষ্ট অংশ থাকে, যেগুলো খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখতে হয়। চিন্তা করুন, একটা ভালো গল্পের যেমন শুরু, মাঝে ঘটনা আর শেষে একটা উপসংহার থাকে, অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) ও ঠিক তাই:

গবেষণার উদ্দেশ্য (Research Objective) (কেন কাজটা করলেন?): প্রথমেই ছোট্ট করে বলে দিন, আপনার গবেষণার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল। কী জানতে চেয়েছিলেন? কোন সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন? (যেমন, আমরা দেখতে চেয়েছিলাম, শহরের দূষণ কীভাবে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।)

গবেষণা পদ্ধতি (Methodology) (কীভাবে কাজটা করলেন?): এরপর সংক্ষেপে বলুন, আপনি কীভাবে আপনার গবেষণাটা করেছেন। ডেটা (Data) কীভাবে সংগ্রহ করেছেন (যেমন, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, নাকি জরিপ করেছেন, নাকি ল্যাবে (Lab) পরীক্ষা করেছেন), আর সেগুলো কীভাবে বিশ্লেষণ (Analyze) করেছেন। (যেমন, আমরা ৩০০ শিশুর উপর জরিপ করেছি এবং বাতাসের গুণগত মান পরিমাপ করেছি।)

মূল ফলাফল (Key Findings) (কী খুঁজে পেলেন?): এই অংশে আপনার গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উপস্থাপন করুন। এখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করে শুধু মূল তথ্যগুলো দিন। (যেমন, দেখা গেছে, যেসব শিশু দূষিত এলাকায় থাকে, তাদের শ্বাসকষ্টের হার অন্যদের চেয়ে ৩০% বেশি।)

উপসংহার/তাৎপর্য (Conclusion/Implication) (এর মানে কী?): সবশেষে, আপনার ফলাফলগুলো কী বোঝায়, সেগুলোর গুরুত্ব কী, আর ভবিষ্যতে এই কাজটা কী কাজে লাগতে পারে—তা সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিন। (যেমন, এই গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, শহরের দূষণ শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এর সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।)

উপসংহার: অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) - আপনার গবেষণার প্রথম ঝলক, সেরাটা দিন! অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। এটা আপনার গবেষণার একটা আয়না, যেখানে পুরো কাজটার একটা প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। তাই, যখন অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) লিখবেন, তখন মনে রাখবেন—আপনি আপনার পরিশ্রম আর আবিষ্কারকে মাত্র কয়েকটা বাক্যে সবার সামনে তুলে ধরছেন। এটা যেন আপনার গল্পের প্রথম লাইন, যা পাঠককে পুরো বইটা পড়ার জন্য আগ্রহী করে তোলে! নিজের কাজকে সেরাভাবে তুলে ধরার জন্য অ্যাবস্ট্র্যাক্ট (Abstract) কে খুব যত্ন করে লিখবেন, কেমন? আপনার গবেষণা সফল হোক!

MD.Rony Masud 
BBA & MBA (DU)
MS (Japan)
Training, NIBM (PUNE)

Post a Comment

0 Comments

Close Menu