“আমেরিকায় ইংরেজিতে মাস্টার্স/পিএইচডির জন্য ফুল-ফান্ডিং পাবেন কিভাবে”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বিভাগে ফুল-ফান্ডিং পাওয়ার মূল রাস্তা হচ্ছে Teaching Assistantship. এগুলো মূলত দুই ধরণের হয়ঃ
১. কোর্স পড়ানো। আপনাকে একটা বা দুইটা First-year-writing কোর্স পড়াতে দেয়া হবে। মাস্টার্সের দ্বিতীয় বছর এবং পিএইচডির শুরু থেকেই এটা হতে পারে। তবে এখানকার যে writing কোর্স তা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। কিন্তু বলা যায় আমেরিকাতে ইংরেজি বিভাগগুলো বেঁচে আছেই এসব writing কোর্সগুলোর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবছাত্রকে এ কোর্স করতে হয়।
২. Writing টিউটর বা কনসাল্টান্ট হিসেবে কাজ করা। এর অংশ হিসেবে কোন সেন্টারে বা ক্লাসে ছাত্রদেরকে Academic Writing বিষয়ে অভিজ্ঞ পরামর্শ বা feedback দিতে হয়।
এছাড়াও গবেষণাপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রফেসরদেরকে গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে ফুল-ফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তবে এ ফান্ডিং পাওয়ার জন্য অনেক সময় আলাদা আবেদনের দরকার হলেও আপনার ভর্তির সিদ্ধান্তের সময়ই এই ফান্ডিং-এর সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। ইংরেজিতে যে বিষয়গুলো আপনার সুযোগ বৃদ্ধি করবে তা হলোঃ
১. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা/যোগ্যতাঃ মনে রাখবেন আপনাকে দিয়ে আমেরিকান ছাত্রদেরকে পড়ানোর উদ্দ্যেশেই মূলত আপনাকে নিয়োগ দেবে। এ যোগ্যতা যদি আপনি অন্য উপায়ে প্রমাণ করতে পারেন সেটা আপনার ব্যাপার। স্কুলে পড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও ভাল।
২. Scholarly Writing Sample: এটা হতে হবে ১০-২০ পৃষ্ঠা (Double-spaced) লম্বা। কোন জার্নালে প্রকাশিত লেখা হলে সবচেয়ে ভাল হয়। আপনি একাডেমিক লেখা লিখতে পারেন কি-না এটাই তার প্রমাণ করার সুযোগ। আপনি যে এরিয়াতে ডিগ্রি করবেন আপনার লেখা সে এরিয়াতেই হতে হবে।
৩. Personal Statement: এখানে আপনাকে বলতে হবে আপনার একাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহ, ছাত্র পড়ানোর অভিজ্ঞতা, ডিগ্রিশেষে আপনার পরিকল্পনা, আর কেন সে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছেন তার যুক্তি। আপনি যে মাস্টার্স/পিএইচডি করার যোগ্য সেটা সবদিক বিবেচনা করে প্রমাণ করার সুযোগ এখানেই।
৪. Three Strong Recommendation Letters: কমপক্ষে তিনটা লাগবে। আপনার সরাসরি শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকর্মি (আত্মীয়বাদে) যে-ই আপনার পক্ষে আপনার teaching, research, এবং personality নিয়ে কথা বলতে পারবে সে-ই এ লেটার লিখতে পারবে। আপনি যে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এবং পড়াতে পারবেন তার সুপারিশ পাওয়ার সর্বোত্তম জায়গা এটা।
৫. GRE: মোটের উপর স্কোর (Verbal এবং Math মিলে) কমপক্ষে ৩০০ এবং Analytical Writing-এ কমপক্ষে ৩.৫। Math স্কোর কম হলে সমস্যা নাই। যদিও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আর GRE চাচ্ছে না, একটা ভাল GRE স্কোর আপনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।
৬. TOEFL: স্কোর ১০০-এর উপরে হতে হবে। অথবা IELTS-এ সব ব্যান্ডে ৭+ হওয়া উচিৎ।
৭. Curriculum Vita (CV): আপনার CV-তে কোন ছবি দিবেন না। ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন, জন্ম তারিখ, বৈবাহিক অবস্থা, চামড়ার রং বা NID) উল্লেখ করবেন না। শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, আর leadership experience দিলেই হবে। কি কি কোর্স করেছেন বা পড়িয়েছেন তা-ও দিতে পারেন।
৮. Transcripts: একটা ভাল Second Class বা সিজিপিএ ৩+ হলে ভাল হয়। ক্লাসে আপনার কত পজিশন ছিল এটা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।
মনে রাখবেন আপনার সাফল্য নির্ভর করবে পুরো প্রোফাইলের উপর। কোন একটা দিকে খারাপ হলে অন্য দিকে ভাল করে ফান্ডিং পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন যোগ্যতা বা শর্ত চাইতে পারে।
সর্বোপরি, যেহেতু writing কোর্স পড়ায়ে আপনার ফান্ডিং হবে, কী করে তা পড়াবেন তার প্রস্তুতিও এখনি নিতে থাকেন।
সাথে সাথে কোন বিষয়ে আপনি ডিগ্রি করবেন সে ব্যাপারে ভাল ধারণা থাকতে হবে। সেটা হয়তো আর একদিন লিখবো।
Note: I wrote this post based on my personal experiences. It may not reflect everyone else’s experiences.
___________________________
লিখেছেন: Mijan Rahman ভাই
0 Comments