Ad Code

অনুপ্রেরণা

অনুপ্রেরনার গল্পঃ

ছবির ছেলেটার নাম মানিক। বুয়েটে আমাদের ব্যাচমেট ছিলো সে। ২৩ বছর আগের রমজানে মাসে তাঁকে দেখা গিয়েছে বুয়েট মাঠে, রোজা থেকেও ফুটবল নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।

লাইফের একট আইরনি হচ্ছে, অনেকেই মনে করে, এইচ এস সি পাশ করে ভালো কোথাও ভর্তি  হলেই লাইফ সেট হয়ে গেলো। কিন্তু জীবন যে কতবার কত ভাবে রং বদলায়!
বুয়েটে ভর্তি হয়ে আমার এই বন্ধুটি যেনো তাঁর পড়াশুনার সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলো। তাঁর মনে হয়েছিলো সে যেনো ভুল যায়গায় চলে এসেছে। আর তাই ক্লাসের পড়াশুনায় একদমই মন বসেনি তাঁর।

বুয়েটে ন্যাভাল আর্কিটেকচার এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (NAME) ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হলেও সমুদ্র নয়, আকাশ ছিলো তাঁর ধ্যানজ্ঞান। সারাদিন ফুটবল খেলা, ছবি আঁকা, আর আকাশে কাগজের প্লেন উড়ানো ছিলো তাঁর টাইম পাস।

ক্লাসটেস্ট, পরীক্ষায় আগ্রহ না থাকলেও, সে কিন্তু তাঁর প্যাশন নিয়েই ছিলো! আর তাঁর আগ্রহের যায়গা ছিলো অ্যারোডিনামিক্স।

২০০৪ সালে সে নিজের হাতে রিমোট কন্ট্রোল প্লেন বানিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে উড়িয়েছিলো। তাঁর এই প্রজেক্ট টি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ICME 2005) এর বেস্ট প্রজেক্ট হয়েছিলো।

এরমধ্যেই দেশের অ্যারোডিনামিক্স সেক্টরে সে নাম করেছে। Skywarp Aeronautics নামে দেশে একটা এরোস্পেস কোম্পানীও চালায়।

তবু পরীক্ষায় ফার্স্ট সেকেন্ড না হলে, কিম্বা হাই সিজিপিএ না পেলে আমরা কি কাউকে মেধাবী হিসেবে মুল্যায়ন করতে পারি? প্রচন্ড মেধা থাকলেও অনেকেই অবহেলিত হয়। মানিকের ক্ষেত্রেও তা হয়েছিলো।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়, বরং কেবল শুরু ...
এখন সে চান্স পেয়েছে নাসার এক রিসার্চ প্রজেক্টে কাজ করার! নাসা আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে জিরো এমিশনের কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট বানাতে চায়, এই জন্যে কার্বনলেস ইলেক্ট্রিক এভিয়েশন প্রজেক্টে ৮ মিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দিয়েছে।

টেনাসী টেক ইউনিভার্সিটির ইঞ্জনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রকৌশলীরা কয়েক মিলিয়ন ডলারের এই রিসার্চ প্রজেক্ট টি করছে, যা কি না আগামীর পৃথিবীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সেখানেই ডাক পেয়েছে আমার এই নিভৃতচারী, বিনয়ী, পাগলাটে ক্লাসমেট বন্ধুটি। তাঁকে আগামী স্প্রিং সেমিষ্টারে পিএইচডি অফার করা হয়েছে নাসার এই প্রজেক্টে।
নিজের প্যাশনের প্রতি একাগ্রতা আর ক্রেজিনেসের পুরস্কার সে পেয়েছে। এত বড় সুসংবাদ পেয়েও সে প্রায় কাউকেই জানায়নি, চেপে রেখেছিলো এই খবর।

জীবনে সাক্সেসের পিছনে না ছুটে এক্সেলেন্সে ধ্যান দিয়ে বাজিমাত করার গল্প শুধু 'থ্রী ইডিয়টস' মুভি তেই ঘটে না, বাস্তব জীবনেও ঘটে!

--তাশফিক ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments

Close Menu