Ad Code

ফান্ডিং এবং স্কলারশিপ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ফান্ডিং এবং স্কলারশিপ এর মধ্যে পার্থক্য কি? 

চলুন,গল্পের মাধ্যমে বিষয়টি সহজে বোঝার চেষ্টা করি, রাফি আর নাবিলার আমেরিকা যাত্রা

রাফি আর নাবিলা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। দুজনের স্বপ্ন ছিল আমেরিকায় গিয়ে মাস্টার্স করা। কিন্তু দুজনের যাত্রাপথ আর অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা হয়ে গেল।

নাবিলা একদিন জানাল,
 আমি স্কলারশিপ পেয়েছি! বিশ্ববিদ্যালয় আমার পড়ার খরচ আর ল্যাবের গবেষণার খরচ সব দেবে। আমাকে কোনও বাড়তি কাজ করতে হবে না। আমি শুধু পড়াশোনা আর গবেষণাতেই মন দেব।

রাফি শুনে খুশি হলো, কিন্তু তার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাফি আমেরিকায় ভর্তি হয়েছিল ফান্ডিং নিয়ে, যা আসলে ছিল "গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ"। মানে তাকে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় ল্যাবে কাজ করতে হবে বা ক্লাসে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তার সেই কাজের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার টিউশন ফি মওকুফ করবে এবং কিছু স্টাইপেন্ড দেবে, যা দিয়ে সে নিজের থাকা খাওয়ার খরচ চালাবে।

নাবিলা দিনে ক্লাস আর গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকত, আর রাফিকে পড়াশোনার পাশাপাশি সময় ম্যানেজ করে ল্যাবে রিপোর্ট তৈরি, ডেটা অ্যানালাইসিস, কিংবা শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট চেক করতে হতো।

একদিন রাফি হেসে বলল,
 মানুষ ভাবে আমি স্কলারশিপে পড়ছি, কিন্তু আসলে আমি কাজ করছি আর সেই কাজের বিনিময়ে পড়াশোনার খরচ মিটাচ্ছি।
নাবিলা মাথা নেড়ে বলল,
হ্যাঁ, স্কলারশিপ মানে শুধু পড়া বা গবেষণার জন্য টাকা পাওয়া, কিন্তু ফান্ডিং মানে কাজ করে খরচ চালানোর সুযোগ পাওয়া।

এভাবেই তারা বুঝল দুটোই উচ্চশিক্ষার জন্য সহায়ক হলেও, স্কলারশিপ আর ফান্ডিং এক জিনিস নয়।

ফান্ডিং আর স্কলারশিপ এক জিনিস নয়। স্কলারশিপে পড়াশোনা বা গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যেখানে আপনাকে অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হয় না।
কিন্তু ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান আপনাকে কাজ করার সুযোগ দেয়, যাতে কাজ করে আয় করে পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারেন।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যায়। কিন্তু এর ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকায় মাস্টার্স প্রোগ্রামে বছরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি প্রায় ৮,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে আরও অনেক অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়।

তাই আমেরিকায় পড়তে চাইলে সাধারণত ফান্ড দরকার হয়, যা মূলত তিন ধরণের:

1. সেলফ ফান্ড: সব খরচ নিজে বহন করা।
2. পার্শিয়াল ফান্ড: বিশ্ববিদ্যালয় কিছু সহায়তা দেয়, কিন্তু কিছু খরচ নিজের বহন করতে হয়।
3. ফুল ফান্ড: বিশ্ববিদ্যালয় পুরো খরচ বহন করে।

তথ্যসংগ্রহ : Aayan Rahman 

Post a Comment

0 Comments

Close Menu