দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে, আপনার যত প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর: 🇰🇷🇰🇷
যারা দক্ষিণ হায়ার স্টাডি করতে চান, তাদের জন্য বেসিক কিছু জিনিস নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি এই লেখাটা পড়ে উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে বিস্তারিত ধারনা পাবেন।
১.ভাই দক্ষিণ কোরিয়ায় কেন উচ্চ শিক্ষার জন্য যাবো??
উত্তরঃ
দক্ষিণ কোরিয়া পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র , যা কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত। এর সরকারি নাম কোরীয় প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তরে উত্তর কোরিয়া, পূর্বে জাপান সাগর, দক্ষিণে ও দক্ষিণ-পূর্বে কোরিয়া প্রণালী, যা জাপান থেকে দেশটিকে পৃথক করেছে, এবং পশ্চিমে পীত সাগর। সিউল হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। বর্তমান সময়ে উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের একটি দেশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০ টি ফ্লাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় সহ ,সরকারী - বেসরকারি মিলে ২০০ টির অধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
২.দক্ষিণ কোরিয়ায় মুলত কয় দুই ধরনের প্রোগ্রামে উচ্চ শিক্ষা নিতে আসা যায়?
উত্তরঃ দক্ষিণ কোরিয়ায় মুলত দুই ধরনের প্রোগ্রামে উচ্চ শিক্ষা নিতে আসা যায়। প্রথম: Undergraduate Program , দ্বিতীয়: Graduate Program
৩. Undergraduate Program – অনার্স প্রোগ্রাম কোন ল্যাঙ্গুয়েজ এ পড়ানো হয়??
উত্তরঃ Undergraduate Program – অনার্স প্রোগ্রাম। আন্ডারগ্রাজুয়েট এ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান লেঙ্গুয়েজ এ হয়ে থাকে। তবে ইংরেজি লেঙ্গুয়েজে এ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স এভেইলাভল আছে।
৪. Undergraduate Program – অনার্স প্রোগ্রাম এ ভর্তির যোগ্যতা কি কি?
উত্তরঃ
ভর্তির যোগ্যতা :
1. অনার্স প্রোগ্রাম এ বাংলাদেশ থেকে আসা জন্য মুলত S.S.C এবং H.S.C কম্পিট করতে হবে।
2. Standardized Test ইউনিভার্সিটিগুলোতে এপ্লাই করতে হলে আগে কিছু টেস্ট দেয়া প্রয়োজন। যেমন – TOEFL, IELTS, etc. ( IELTS - Minimum Requirment # 5.5- 6.0 ) , Korea Language Proficiency ( TOPIK - 3)
৫.ভাই , Graduate Program – মাস্টার্স প্রোগ্রাম, পিএইচডি প্রোগ্রাম, কম্বাইন্ড মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম এ কিভাবে এপ্লাই করবো??
উত্তরঃ
Graduate Program – মাস্টার্স প্রোগ্রাম, পিএইচডি প্রোগ্রাম, কম্বাইন্ড মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম এ এপ্লাই করার আগে প্রফেসর ম্যানেজ করতে হবে। প্রফেসর কে ম্যানেজ করার হলে উনি আপনাকে এডমিশন , টিউশন ,স্কলারশিপ সব বিষয় এ বিস্তারিত বলবেন।
৬.ভাই, কিভাবে প্রফেসর ম্যানেজ করবো??
উত্তরঃ প্রফেসররা, মুলত গবেষণায় ভিত্তিতে , গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট কে তার ল্যাব এ মাস্টার্স / পিএইচডি করার জন্য সুযোগ দেয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দের আলাদা আলাদা ল্যাব রয়েছে। প্রতি বছর প্রফেসররা তাদের ল্যাব এর জন্য নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার জন্য তাদের ল্যাব ওয়েবসাইট এ বিঙ্গাপন দেন। তাই আমি বলবো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট এ ফ্যাকাল্টি লিস্ট এ গেলেই প্রফেসর দের ল্যাব এর ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন। যেখান থেকে প্রফেসর দের ইমেইল এ ইমেইল করতে হবে।
৭. Graduate Program – মাস্টার্স প্রোগ্রাম, পিএইচডি প্রোগ্রাম, কম্বাইন্ড মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম এ ভর্তির যোগ্যতা কি কি??
উত্তরঃ
ভর্তির যোগ্যতা :
1. মাস্টার্স এবং কম্বাইন্ড মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম এ আসার জন্য বাংলাদেশর সরকারি - বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স প্রোগাম শেষ করতে হবে।
2. শুধু পিএইচডি প্রোগ্রাম এর জন্য ,অনার্স ও মাস্টার্স উভয়ই সম্পুর্ণ থাকতে হবে।
3. Standardized Test ইউনিভার্সিটিগুলোতে এপ্লাই করতে হলে আগে কিছু টেস্ট দেয়া প্রয়োজন। যেমন – TOEFL, IELTS, etc. ( IELTS - Minimum Requirment # 5.5- 6.0 )
৮. দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা করতে আসা বিদেশী স্টুডেন্টদের ভিসা কি?
উত্তরঃ
D2 Visa – দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা করতে আসা বিদেশী স্টুডেন্টদের ভিসা। ভার্সিটিতে আমাদের ভর্তি কনফার্ম হয়ে গেলে আমরা এই ভিসার জন্যেই এপ্লাই করবো।
৯. ভাই, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কখন আবেদন করতে হয়?
⭕️ Fall Session – শরৎকালে অর্থাৎ (সেপ্টেম্বর - ডিসেম্বর ), সেপ্টেম্বরে এই সেশন শুরু হয়।
⭕️ Spring Session – (মার্চ - জুন ), মার্চ এ এই সেশন শুরু হয়।।
১০. ভাই, দক্ষিণ কোরিয়া কি স্কলারশিপ পাওয়া যায় এবং স্কলারশিপ গুলো বিষয় বিস্তারিত বলুন ?
স্কলারশিপ :
দক্ষিণ কোরিয়ায় মুলত তিন ধরনেরই স্কলারশিপ সুপরিচিত। এই স্কলারশিপ গুলো মুলত গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য ( মাস্টার্স ও পিএইচডি )।
* কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (কেজিএসপি)
* BK 21 Scholarship
* Graduate Research Assistantship
✔️কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (কেজিএসপি):
প্রতি বছর Udergraduate and Graduate কোর্সের জন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। প্রতিবছর এই স্কলারশীপের আওতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এই স্কলারশীপের জন্য বাংলাদেশের কোটা থাকে ২ থেকে ৩ জন। বুঝতেই পারছেন কতটা প্রতিযোগিতা হয় এই স্কলারশিপের জন্য। এই স্কলারশিপ পেতে হলে নিজেকে সবার থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে হয়। যেমন একাডেমিক রেজাল্ট, আইইএলটিএস, কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সার্টিফিকেট (যদি থাকে), এক্সট্রা কারিকুলাম সার্টিফিকেট ইত্যাদি। যদিও উল্লেখিত সার্টিফিকেটের কথা উল্লেখ থাকে না কিন্তু সবার চেয়ে নিজেকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে এই ধরণের সার্টিফিকেটগুলো কাজে দিবে। সেজন্য উচ্চমাধ্যমিকে থাকা অবস্থায় প্রিপারেশন নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি। যদিও একই যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও ভাগ্যের কারণে অনেকেই এই স্কলারশীপ থেকে বঞ্চিত হন।
সুযোগ সুবিধা:
এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ পাবেন কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে। শিক্ষার্থী নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী যে কোন বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে পারবেন। প্রথম ১ বছর কোরিয়ান ভাষায় পড়ে লেভেল ৩ পাশ করে তারপর অনার্সের ও মাস্টার্স , পিএইচডি মূল কোর্সের পড়াশোনা শুরু হয়ে থাকে। যদি আপনার পছন্দ করা সাবজেক্টে ইংরেজি লেকচার হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে পড়তে পারবেন। কিন্তু বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে কোরিয়ান ভাষায় লেকচার হয়।
কেজিএসপি স্কলারশীপের আওতায় যা যা পাওয়া যাবে তার একটু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিই।
1. আসা যাওয়ার বিমানের টিকেট,
2. সেটেলমেন্ট এলাউন্স ২ লাখ উওন,
3. লিভিং এলাউন্স ৮ লাখ উওন,
4. মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স মাসিক ২০ হাজার উওন,
5. ল্যাংগুয়েজ কোর্স ফি ৮ লাখ উওন,
6. টিউশন ফি,
7. এক্সিলেন্ট ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি অ্যাওয়ার্ড বাবদ মাসিক অতিরিক্ত ১ লাখ উওন,
8. রিসার্চ সাপোর্ট প্রতি সেমিস্টারে ২ লাখ দশ হাজার উওন।
9. এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে হবে। তবে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে আগের বছরের আবেদন ফর্মের সাথে যুক্ত ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র’ অংশ দেখে নিতে পারেন।
✔️BK 21 Scholarship
BK ,21 Scholarship মিলত কোরিয়ান সরকারি স্কলারশিপ। এটি মুলত কোরিয়ান সরকার বিভিন্ন ফ্লাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো BK project এর আন্ডার এ প্রতি সেমিস্টার গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের মাসিক স্টাইপেন দিয়ে থাকে।
✔️Graduate Research Assistantship – আমরা অনেকে বিজ্ঞানী আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- দুটোকে একেবারে ভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখি; বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিচার করি বলেই হয়তো। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই দুটো টার্ম একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ওখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই গবেষণা করেন মূলত, ইউনিভার্সিটির বড় বড় ল্যাবে তাদের রিসার্চ চলে। এইসব রিসার্চের জন্য তাদের এসিস্ট্যান্টের প্রয়োজন হয়। তাই তারা Graduate Research Assistantship অফার করে।
Bk 21 scholarship এবং Graduate Research Assistant পাওয়ার জন্য ,প্রফেসর ম্যানেজ করতে হবে। প্রফেসররা সুপারিশ করলেই আপনি এই স্কলারশিপ ২ টি পেতে পারেন।
১১.ভাই আরো তথ্য জানার জন্য কি আপনাকে মেসেজ/ ইমেল করতে পারি?
উত্তরঃ জি অবশ্যই , আপনার কোন নিদিষ্ট বিষয় এ জানার থাকলে আমাকে মেসেজ/ ইমেইল করতে পারেন, তবে মেসেজ বাংলায় অথবা ইংরেজিতে লিখবেন। অনুগ্রহ করে বাংলিশ লিখবেন না।
দৃষ্টি আকর্ষণঃ কমেন্ট বক্স এ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিংক দেব সেগুলো থেকে আপনারা তথ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ।
সবশেষ এ সবার উদ্দেশ্য একটাই কথা , উচ্চ শিক্ষায় প্রতিটি জার্নি অনেক কষ্টের। লেগে থাকলে অবশ্যই আপনি সফল হবেন। ভালোবাসা ও দোয়া রইলো সবার জন্য। আশাকরি উপরে লেখাটি উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আসাতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে।
Regards,
Md. Babul Miah
Doctoral Research Fellow/Ph.D, in Earth and Environmental Science, Jeonbuk National University, South Korea.
Email: babul.bsmrstu16@gmail.com
#HigherStudyAbroad
#southkorea
#vairalpost
0 Comments