বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন শুধু একজন শিক্ষার্থীর জন্য নয়, অনেক সময় এটি একটি পরিবারের স্বপ্নও বটে। বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী যখন মাস্টার্স, পিএইচডি কিংবা গবেষণার সুযোগ নিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতে যান, তখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে— সঙ্গী (spouse) অথবা সন্তানকে সাথে নেওয়া যাবে কি না?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, কোন ধরনের ভিসা বা স্কলারশিপ পাচ্ছেন, এবং আপনার আর্থিক প্রস্তুতি কতটা দৃঢ়। নিচে আমি বিভিন্ন দেশের নিয়ম ও সুযোগ তুলে ধরছি—
A. ইউরোপ (EU/Schengen Area)
- জার্মানি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ প্রায় সব ইউরোপীয় দেশেই উচ্চশিক্ষার্থীরা তাদের spouse ও সন্তানকে dependent visa-তে সাথে নিতে পারেন।
- সাধারণত শর্ত থাকে যে ছাত্র/ছাত্রীকে দেখাতে হবে যে তিনি তার পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ/স্কলারশিপ পাচ্ছেন।
- অনেক দেশে (যেমন জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে) spouse কাজ করার অনুমতি পান, যা পরিবারের আর্থিক স্থিতি মজবুত করে।
B. যুক্তরাজ্য 🇬🇧
- যুক্তরাজ্যে master’s (৯ মাস বা তার বেশি) অথবা পিএইচডি শিক্ষার্থীরা spouse/children কে সাথে নিতে পারেন।
- spouse পূর্ণকালীন কাজ করার সুযোগ পান, আর সন্তানরা বিনামূল্যে স্কুলে পড়তে পারে।
- তবে financial requirement যথেষ্ট বেশি, তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি।
C. কানাডা 🇨🇦
- কানাডায় spouse open work permit পান, যা সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
- সন্তানরা বিনামূল্যে পাবলিক স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পায়। অনেক বাংলাদেশি পরিবার কানাডাকে তাই প্রথম পছন্দ করে।
D. যুক্তরাষ্ট্র 🇺🇸
- আমেরিকায় spouse সাধারণত F-2 visa পান, তবে তারা কাজ করতে পারেন না।
- সন্তানরা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, তবে শিক্ষার খরচ বহন করতে হয়।
- গবেষক ও PhD শিক্ষার্থীরা অনেক সময় J-1/J-2 ভিসার মাধ্যমে কিছুটা সুবিধা পান।
E. অস্ট্রেলিয়া 🇦🇺 ও নিউজিল্যান্ড 🇳🇿
- অস্ট্রেলিয়ায় spouse full-time work permit পান, সন্তানরা স্কুলে পড়তে পারে।
- নিউজিল্যান্ডেও প্রায় একই সুবিধা রয়েছে।
তাই পরিবারসহ পড়াশোনার জন্য এ দুটি দেশ বেশ জনপ্রিয়।
F. এশিয়ার উন্নত দেশগুলো
- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর— এ দেশগুলোতেও spouse/children সাথে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে কাজের অনুমতি সব জায়গায় এক রকম নয়। যেমন, জাপানে spouse কাজ করতে পারেন, তবে পার্ট-টাইম সীমিতভাবে।
প্রিয় বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষা আগ্রহী শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
পরিবারকে সাথে নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিকভাবেও বড় একটি দায়িত্ব। সঠিক তথ্য না জানলে অনেকেই হতাশ হন বা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাই:
দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা নীতিমালা আগেভাগে ভালোভাবে জেনে নিন।
ফাইন্যান্সিয়াল প্রমাণপত্র (স্কলারশিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, লিভিং কস্ট) সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।
সম্ভব হলে এমন দেশ বেছে নিন যেখানে spouse কাজ করতে পারেন— এতে আপনার পরিবার আরও স্বাবলম্বী হবে।
সন্তান থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থার খরচ ও সুযোগ আগেই যাচাই করুন।
মনে রাখুন- বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জন শুধু একজনের জীবনে নয়, একটি পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবারকে পাশে নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা মানে হলো— স্বপ্নকে একসাথে বাস্তবায়ন করা। শিক্ষার সাথে পরিবারের ভালোবাসা যুক্ত হলে তা পূর্ণতা পায়।
তাই, যদি আপনার স্বপ্ন হয় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, তবে পরিবারের জন্যও সেই স্বপ্নে জায়গা রাখুন। সঠিক পরিকল্পনা করুন, সাহস রাখুন, আর বিশ্বাস রাখুন— বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও পরিবার নিয়ে বিশ্বজয় করতে পারে।
0 Comments