🔖 📚 বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস: সম্পূর্ণ চেকলিস্ট! 🌏
দেশের বাইরে পড়াশোনা করার চিন্তা করলে প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে। কোথাও আবেদন করতে কোন ডকুমেন্টস গুলো লাগবে, সেটা স্পেসিফিক দেশ কিংবা ইউনিভার্সিটির ওপর নির্ভর করে। তবে প্রত্যেকটা দেশ কিংবা ইউনিভার্সিটির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্টস লাগে।
১. পাসপোর্ট: আপনার আইইএলটিএস এক্সাম থেকে শুরু করে ভিসা পর্যন্ত এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্ট হচ্ছে আপনার ইন্টারন্যাশনাল আইডেন্টিটি। সুতরাং, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আপনার একটা বৈধ পাসপোর্ট এবং সেটার মেয়াদ কমপক্ষে ৬-১২ মাস থাকা উচিত।
২. ছবি (পাসপোর্ট সাইজ): একবারে অনেকগুলো কপি প্রফেশনাল ছবি তুলে রাখা উত্তম যাতে দেশের বাইরে গেলেও সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আবেদন থেকে শুরু করে দেশের বাইরে গিয়েও বিভিন্ন কাজে ছবি দরকার হবে।
৩. অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্টস: আপনি যে-ই লেভেলের জন্য আবেদন করবেন তার পূর্ববর্তী লেভেলের সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট প্রয়োজন। ব্যাচেলর এর জন্য এসএসসি ও এইচএসসি; মাস্টার্স এর জন্য ব্যাচেলর এর সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট (যদি প্রযোজ্য হয়) প্রয়োজন হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাস্টার্স এর আবেদনের জন্য এইচএসসি এর ডকুমেন্টস চাইতে পারে। সবচে ভালো হয়, এসএসসি থেকে আপনার সব অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে রাখা৷
৪. স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SOP): বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য এটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস কিন্তু আমরা গুরুত্ব দেই না। আপনার নিজেকে তুলে ধরার জন্য এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এই সেকশনে কেন আপনি এই কোর্সটি করতে চান এবং আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা ব্যাখ্যা করুন। আপনার SOP সময় নিয়ে লিখুন এবং এক্সপার্ট থেকে রিভিউ করিয়ে নিন।
৫. Letter of Recommendation (LOR): আপনাকে ভালো জানে এবং আপনি রিসার্চ কিংবা প্রজেক্টের কাজ করেছেন, এমন শিক্ষকদের থেকে ২-৩ টা LOR সংগ্রহ করুন৷ আমাদের দেশের শিক্ষকরা এটা লিখতে অভ্যস্ত না, তাই আপনি নিজের মতো করে লিখে উনাদের থেকে সিগনেচার নিতে পারেন। তবে এটা নিশ্চিত করবেন, আপনার আবেদনের পরে যখন উনাকে মেইল করা হবে সেটার রিপ্লাই এর ব্যাপারে।
৬. ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ: মোটামুটি সব দেশেই IELTS স্কোর গ্রহণ করা হয়। তবে আপনি চাইলে কিছু দেশে PTE কিংবা MOI দিয়েই আবেদন করতে পারবেন। ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে ডেডলাইন চেক করে সেই অনুযায়ী IELTS এক্সাম দিয়ে ফেলুন।
৭. CV (Curriculum Vitae): আপনার অ্যাকাডেমিক এবং প্রফেশনাল অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণ লিখুন৷ ইউরোপে আবেদনের জন্য ইউরোপাস সিভি ব্যবহার করতে পারেন। এটা নিয়ে ফেইসবুক কিংবা গুগলে সার্চ করলে ফরম্যাট সহ বিস্তারিত পাবেন৷
৮. রিসার্চ পাবলিকেশন: এটা বেসিক্যালি পিএইচডি লেভেলে আবেদনের জন্য লাগে। তবে মাস্টার্স এর আবেদনের সময় পাবলিকেশন থাকলে আপনি অন্যান্য সবার থেকে এগিয়ে থাকবেন। পাবলিকেশন থাকলে স্কলারশিপ কিংবা ফান্ড পেতে অনেক সুবিধা হয়। এটা অত্যাবশকীয় না, তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
৯. জব এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট: এটা বেশিরভাগ জায়গায় আবেদনের ক্ষেত্রে লাগে না। তবে কিছু কিছু স্কলারশিপ যেমন: SI Scholarship, DAAD Scholarship, Australia Awards এগুলোতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে দুই বছরের জব এক্সপেরিয়েন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
১০. Extracurricular Activities Certificates: মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলে আবেদনের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ না তবে থাকলে দিতে পারেন। ব্যাচেলর এর আবেদনের জন্য আবার এটা বেশ গুরুত্ব বহন করে।
১১. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: সাধারণত ৬-১২ মাসের স্টেটমেন্ট দেখাতে হয় তবে স্কলারশিপ পেলে এটা লাগে না। স্কলারশিপ না-পেলে সাধারণত আপনার ১ বছরের টিউশন ফিস এবং লিভিং এক্সপেন্স এর টাকা স্টেটমেন্ট হিসাবে দেখাতে হয়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য মোটামুটি এই ডকুমেন্টস গুলো প্রস্তুত রাখলেই হয়৷ তবে ভিসার আবেদনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, স্কলারশিপ আবেদনপত্র, স্কলারশিপ অফার লেটার সহ বিভিন্ন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়৷
© Meer Eikramuzzaman
Yangzhou University, China
0 Comments